দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ থাকা একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে ফের দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর এলাকায় বিরোধীয় জমিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন জমির মালিক দাবিদার মো. মজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মজিবুর রহমানের চাচি ফাতেমা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা বেগম বলেন, কলাপাড়া উপজেলার ইছবপুর মৌজার জেএল নম্বর ২৭, বিএস দাগ নম্বর ৩৭২ ও ৮১৬ এবং খতিয়ান নম্বর ১২৯, ২৩০৩ ও ২০৭-এর মোট ১ দশমিক ২৫ একর জমি নিয়ে কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলে গত ২২ জুলাই আদালত বিরোধীয় জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে ওই আদেশের পরও মো. ইমরান হাওলাদার, হানিফ, ইব্রাহিমসহ কয়েকজন লোকজন নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে টিন ও কাঠ দিয়ে পাটাতন নির্মাণ করে দুটি ঘর তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফাতেমার অভিযোগ, এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে আবারও জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এ সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আরও ১০ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার আসামি মাহাতাব মাওলানা ও শাহীন মীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মামলাটিকে ‘মিথ্যা, ফাঁসানো ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন।
তাদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে বিরোধীয় জমিতে নির্মাণ করা দুটি ঘর মহিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওই জমিতে আবারও দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। স্থাপনা নির্মাণে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, স্থাপনা নির্মাণের পেছনে বিএনপির কোনো ইন্ধন নেই। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ জানানো হলেও পুলিশ বলছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “বিষয়টি আদালতের। আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। পুলিশ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছে। শুক্রবার নামাজের সময় তারা ঘর উত্তোলন করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।”
বিরোধীয় জমি নিয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে মজিবুর রহমানের পরিবার। একই সঙ্গে আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
যে আই